TODO Should be editable

মানবকল্যাণমূলক দাতাদের অনুদানপ্রথাকে ব্রাহ্মণ্যবাদমুক্ত করার এখনই সময়

মানবকল্যাণমূলক দাতাদের অনুদানপ্রথাকে ব্রাহ্মণ্যবাদমুক্ত করার এখনই সময়

গত দশক জুড়ে, অর্থনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক ন্যায্যতা অর্জনের লক্ষ্যে, দাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশলিক পরিবর্তন সঁচারিত করতে বাধ্য হয়। অকিউপাই অয়াল স্ট্রীট ও ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার এর মতো যুবসমাজ, কৃষ্ণাঙ্গ, কুইয়ার ও শ্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই আন্দোলনগুলো অবশ্যই কৃতিত্বযোগ্য। এই আন্দোলনগুলোর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক পুঁজিবাদ ও শোষণমূলক ধন-সম্পদ আহরণতন্ত্রকে মৌলিক স্তরে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে তাদের কাজ শ্বেতাঙ্গ-আধিপত্য, দাসত্ব ও ঔপনিবেশিকতা, বা সেট্‌লার কলোনিয়ালিস্ম কাঠামোর পরিপ্রেক্ষিতে পরিদর্শন করা শুরু করেছে। 

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতাধারী উত্তর বিশ্বে (গ্লোবাল নর্থ) অবস্থিত সংগঠনগুলির জন্য দানপ্রথা ঔপনিবেশিকতামুক্ত করার এই আহ্বান বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারন প্রান্তিক দক্ষিণ বিশ্বে (গ্লোবাল সাউথ) তাদের অনুদানকর্ম প্রায়শই ঔপনিবেশিক পন্থা টিকিয়ে রাখায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। এমনকি, প্রগতিশীল সংগঠনগুলোতেও নির্বাচনী পক্ষপাত প্রচলিত, যার ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্বাহীকর্মে শ্বেতাঙ্গ মানুষ অথবা ব্রাহ্মণ (দক্ষিণ এশিয়ার সর্বচ্চ প্রভাবশালী জাত) বা অন্যান্য আধিপত্যধারী জাতিসমূহকে দেখা যায়। ঔপনিবেশিকতামুক্তির প্রচেষ্টা বরাবরই আদৃত ও আবশ্যক, তবে উল্লেখ্য, যে চলমান ক্ষমতা বিশ্লেষণের ধারায় একধরনের যুক্তরাষ্ট্র-কেন্দ্রিক প্রক্রিয়া বহুল প্রচলিত। আন্তর্জাতিক দাতা সংগঠন হিসেবে আমাদের ক্ষমতা বিশ্লেষণকে ভৌগলিক ও সাংস্কৃতিক বর্গগত ক্ষমতাগঠন পরিপূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে হবে, যার ভীত স্থানীয় ধর্ম, জাত ও জাতিগত আধিপত্যের মতাদর্শ। গ্রামীণ ভারতে বেড়ে ওঠা, এশিয়াতে অনুদান পরিচালনায় নিয়জিত একজন জাতভেদ ও জাতিভেদ বিরোধী বহুজন (একাধিক প্রান্তিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উপাধি) হিসাবে, আমি প্রবলভাবে এর গুরুত্ব অনুভব করি। তাই, ঔপনিবেশিকতা থেকে মুক্তির ডাকে সারা দেবার পাশাপাশি, আমি আন্তর্জাতিক অনুদানব্যবস্থাকে ব্রাহ্মণ্যবাদ থেকে মুক্ত হবারও দাবি জানাচ্ছি!

ব্রাহ্মণ্যবাদমুক্ত বলতে আমি কি বুঝাচ্ছি!? কয়েক হাজার বছর আগে, দক্ষিণ এশিয়াতে একটি আধ্যাত্মিক দর্শণ ও মতাদর্শ হিসেবে যেই ব্রাহ্মমাণ্যবাদের উৎপত্তি হয়, তা আজ আমরা হিন্দুধর্ম বলতে যা বুঝি, সেটার মৌলিক মতাদর্শ। মানুষকে জন্মসূত্রে পূর্বনির্ধারিত ও পেশাভিত্তিক শ্রেণীতে আবদ্ধ করার লক্ষ্যে ব্রাহ্মণ্যবাদ জাতিভেদপ্রথা সৃষ্টি করে। এই প্রথা একটি অনুক্রম, যার সর্ব্বচ্চ স্তর দখল করে ব্রাহ্মণেরা।“সর্বনিম্ন” জাত হওয়ার সূত্রে দলিত গোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে নিপীড়িত, এবং জাতিভেদপ্রথা অনুযায়ী সব থেকে নিম্নপদস্থ পেশায় সীমাবদ্ধ। বিচিত্রতা-সমৃদ্ধ আদিবাসী এবং অন্যান্য সংস্কৃতির রীতি, দর্শন ও ঐতিহ্য ব্রাহ্মণ্যবাদ নিয়মিত হরণ করে, এবং হিংস্রতার বলে আত্মসাত্‌ এবং পরিবর্তন করে। হিন্দু ধর্মের বর্তমান রূপ এইসব আগ্রাসনের পরিণাম। জাতিভেদপ্রথার পেশাভিত্তিক বিভাজন এখন অন্তর্বিবাহ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর প্রতি দমনক্রিয়া বজায়ে রাখার সার্থে ব্রাহ্মণ্যবাদ তাদের জ্ঞান-বিদ্যা, ভূমি, প্রেম এবং বিবাহ, জনসম্পদ ব্যবহার, ক্ষমতাশীল অবস্থানে পৌঁছানোর সুযোগ, জীবিকা, ইত্যাদি ক্ষেত্র কঠোর নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ রাখে। 

ঔপনিবেশিকতা থেকে মুক্তির ডাকে সারা দেবার পাশাপাশি, আমি আন্তর্জাতিক অনুদানব্যবস্থাকে ব্রাহ্মণ্যবাদ থেকে মুক্ত হবারও দাবি জানাচ্ছি!

গ্রামীন ভারতে জাতিভেদপ্রথা দ্বারা নিপীড়িত কৃষীশ্রমিক ও নারীবাদী আন্দোলনের মধ্যে বেড়ে হওয়ার ফলে সহজাত ক্ষমতাভিত্তিক পারস্পরিকতা সম্পর্কে আমার সূক্ষ্ম ধারনা আছে। ক্ষমতাশীল জাতি দ্বারা পরিচালিত এনজিওগুলোর মধ্যে প্রায়ই ঐক্যবদ্ধ ক্ষমতাগঠোনের পরিবর্তে দলিত, কুইয়ার ও নারী স্বাধীনতার প্রতি একধরনের সুরক্ষাবাদী মনোভাব দেখা যায়। 

পশ্চিমা দাতা সংস্থাগুলো সাধারণত নগরকেন্দ্রিক হয়ে থাকে।ক্ষমতার সাথে নৈকট্য ও পুঁজি-সম্পদের নাগাল প্রাপ্তির হিসেবের জায়গা থেকে তারা স্বভাবত প্রভাবশালী গোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত এনজিওগুলোর সাথে কাজ করে। দলিত-বহুজন পরিচালিত জাতভেদ এবং জাতভিত্তিক শোষণ বিরোধী আন্দোলন, যা ভূমি ও জীবিকার প্রতি ক্ষতিকর আর্থ-সামাজিক নীতিমালারও বিরোধিতা করে, এই ক্ষমতাশীল গোষ্ঠীর চেয়ে তুলনামূলকভাবে অনেকটা পুঁজি-বঞ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বেশীরভাগ দক্ষিণ এশিয় জনগোষ্ঠী ব্রাহ্মন অথবা অন্যান্য সুবিধা ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত সম্প্রদায়ের। তারা তাদের অভিবাসনের ইতিহাসের সুতলি ধরে পিছে গেলে ষাট দশকের মাঝামাঝি পৌঁছবে, যখন ক্ষমতাশীল সম্প্রদায়ের শিক্ষিত পেশাদার মানুষজন নব স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দক্ষিণ এশিয় দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়, এবং এখানে সিভিল রাইটস্‌ মুভমেন্টের মাধ্যমে কৃষ্ণাঙ্গদের কষ্টার্জিত সাম্প্রদায়িক ন্যায্যতার সুবিধা ভোগ করে। 

আজ অনুদান কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রচুর দক্ষিন এশিয় আমেরিকানরা কাজ করছে, এবং তাদের অনেকেই ক্ষমতাশীল জনগোষ্ঠীর। তাদের মধ্যে যেসব প্রোগ্রাম অফিসারেরা নিজেদের বিশেষাধিকার নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ চিন্তা করেনি, তাদের কাছে জাত আধিপত্যের সংস্কৃতি কিভাবে দক্ষিণ এশিয়ার মানবাধিকার ও উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব ফেলে, তা ধরা পরেনা। এনজিও ক্ষেত্রে নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর যারা তৃণমূল পর্যায়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তাদের জন্য ব্রাহ্মমাণ্যবাদ ও জাত আধিপত্য দৈনন্দিন কাঠিন্যের উৎস। 

আপনার অনুদানগ্রহণকারীদের সাথে তাদের কর্মপদ্ধতি ব্রাহ্মমণ্যবাদমুক্ত করার কাজে সহায়তা করুন এবং নিশ্চিত করুন তাদের প্রক্রিয়ায়ে জাতভেদ বিরোধী বিশ্লেষণ স্থাপিত হচ্ছে, এবং তাদের দলিত-বহুজন কর্মীদের বিকাশ ও নেতৃত্বে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ হচ্ছে।     

জাতভেদ-বিরোধী রাজনীতি অন্তর্ভুক্ত করে দলিত-বহুজন সম্প্রদায়ের পাশে সংহতি সহকারে দাঁড়ানো আমাদের সকলের কর্তব্য। ব্রাহ্মণ্যবাদ, নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর ভাষা এবং জ্ঞান, পুঁজি ও ক্ষমতাপ্রাপ্তি নিয়ন্ত্রণ করার অস্ত্র। দলিত-বহুজন ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও রীতি-রেওয়াজ গ্রাস, আত্মসাত্‌ ও নিশ্চিহ্ন করার কাজে একে ব্যবহার করা হয়। অতএব, ব্রাহ্মণ্যবাদ থেকে মুক্তি হচ্ছে দলিত-বহুজন নেতৃত্বকে সমর্থন করার চর্চা এবং জাতভেদ বিরোধী আন্দোলন ও দলগুলোকে, মর্যাদা, জীবিকা ও স্বাধীনতার লড়াইয়ে অকপটে ও সসম্মানে সমর্থন করা। 

অনুদানপ্রথাকে ব্রাহ্মণ্যবাদমুক্ত করার কিছু সহজবোধ্য উপায় আছেঃ 

১। দক্ষিণ এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে জাতভিত্তিক নিপীড়ন ও জাতভেদ বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস জানাঃ ব্রাহ্মণ্যবাদ জাতিভেদপ্রথা সৃষ্টি করে। এটা “দলিত সমস্যা” না। দলিত-বহুজন জনগোষ্ঠীর অসাধারণ জাতভেদ বিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে শিখুন। ইকুয়ালিটি ল্যাবস এর থেন্মজি সউন্দেরাজান সম্প্রতি বলেছেন একজন দলিত নারী হিসাবে “অনুদানকারীদের আমাদের মানুষের পরিস্থিতি ও জাতপ্রথার ইতিহাস সম্পর্কে সমতালে আলোকিত করতে হয়”। কিভাবে আপনার অনুদান জাতভেদপ্রথাকে বিনাশ করতে পারে এবং জাতভেদপ্রথা প্ররোচিত শোষণমূলক কাঠামো অনাবৃত করতে পারে, তা কেন্দ্র করে রাজনৈতিক শিক্ষায়ে নিয়োজিত হউন।

২। দক্ষিণ এশিয়ায়ে জাতিভেদ-বিরোধী  এবং দলিত-বহুজন আন্দোলনের ভূমিপ্রাপ্তি, জাত ও লিঙ্গভিত্তিক হিংস্রতার বিরোধিতা ও শ্রমিক অধিকার এর স্বার্থে পুঁজি স্থানান্তর করুন। ন্যায় ও জবাবদিহিতা কেন্দ্রিক দলিত-নেতৃত্বাধীন বহুজাত জাতভেদবিরোধী আন্দোলনকে অগ্রাধিকার দিন। বেশীরভাগ সময়ই এই গ্রামীণ দলগুলো ছোট হয়, তাদের এনজিও রেজিস্ট্রেশন থাকেনা,  এবং বিশ্বব্যাপী তাদের প্রতিনিধিত্ব করার বা আওয়াজ পৌঁছানোর ক্ষমতা সীমিত থাকে। অনুদানকারীরা এই প্রচেষ্টাগুলোকে Caste Equity Fund এর মতো উদ্যোগ এবং অন্যান্য মধ্যবর্তী উদ্যোগ, যাদের দলিত-বহুজন আন্দোলনের সাথে সত্যিকারের সহযোগ আছে, তাদের মাধ্যমে পুঁজি বরাদ্দ করে সমর্থন করতে পারে।   

৩।দলিত-বহুজন সম্প্রদায়ের নিজেদের সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার করার প্রচেষ্টা সমর্থন করুন। দক্ষিণ এশিয় সংস্কৃতিকে সমজাতীয় ভাবা ঔপনিবেশিকতা প্রভাবিত দৃষ্টিকোণ। ব্রাহ্মণ্যবাদ থেকে মুক্তির অর্থ, নিপীড়িত জনগোষ্ঠীকে ব্রাহ্মণ্যবাদী আখ্যান থেকে নিজেদের গল্প ও ইতিহাস পুনরুদ্ধার করায় সহায়তা করা। দক্ষিণ এশিয়ায়ে যারা কর্মরত, তাদের দ্বায়ীত্ব ব্রাহ্মমণ্যবাদী নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্গঠণের প্রবণতার প্রতি সংশোধনীয় সতর্কতা বজায় রাখা কারন এর প্রতিফলন এনজিও এবং অনুদান সেক্টরেও লক্ষণীয়।

৪।আপনার অনুদান গ্রহণকারীদের জন্য বহুভাষিক আলাপ বিনিময়ের ব্যবস্থা করুন যাতে ইংরেজি ভাষাভাষী কর্মী ও সংস্থাদের অসম সুবিধা না দেয়া হয়। ইংরেজিতে পারদর্শী কর্মীরা পশ্চিমা অনুদানকারিদের সাথে সহজে যোগাযোগ করতে পারে বলে, তাদের উপস্থিতিতে নিপীড়িত জনগোষ্ঠী অবহেলিত থেকে যায়। নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার খাতিরে ব্রাহ্মণ্যবাদ নিপীড়িত জনগোষ্ঠীকে লিখন ও জ্ঞ্যান ফলনের ক্ষেত্র থেকে দূরে রাখে। অনুদানকারীদের ভাষার প্রতি ন্যায়সঙ্গত প্রচেষ্টা চালু করতে হবে এবং সব প্রাসঙ্গিক ভাষায় অনুবাদের ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে অংশগ্রহণকারী মূল্য, প্রতিনিধিত্ব ও সমমর্যাদা পায়। 

৫।আপনাদের অনুদান গ্রহণকারীদের তাদের দলিত-বহুজন কর্মীদের নেতৃত্ব বিকাশকে প্রাধান্য দিতে সক্রিয় করুন।  অনেক দক্ষিণ এশিয় সংস্থা মানবাধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে কিন্তু তাদের নেতৃত্ব পরিচালনায় দলিত-বহুজনদের প্রতিনিধিত্ব নাও থাকতে পারে। অনুদানপ্রথাকে ব্রাহ্মমণ্যবাদমুক্ত করা যেমন ব্রাহ্মণ পরিচয়ের কর্মীদের বহিষ্কার করা না, তেমনি দলিত-বহুজন কর্মীদের প্রতীকী প্রতিনিধিত্ব দাড় করানও না। আপনার অনুদানগ্রহণকারীদের সাথে তাদের কর্মপদ্ধতি ব্রাহ্মমণ্যবাদমুক্ত করার কাজে সহায়তা করুন এবং নিশ্চিত করুন তাদের প্রক্রিয়ায়ে জাতভেদ বিরোধী বিশ্লেষণ স্থাপিত হচ্ছে, এবং তাদের দলিত-বহুজন কর্মীদের বিকাশ ও নেতৃত্বে পর্যাপ্ত পুঁজি বিনিয়োগ হচ্ছে।     

বিশ্বব্যাপী যেখানেই দক্ষিণ এশিয়দের উপস্থিতি আছে, সেখানেই ব্রাহ্মণ্যবাদ এবং জাতভেদপ্রথা আছে। সুতরাং, যারাই ঔপনিবেশিকতা উত্থানের কাজ করছে, তাদের জাতের আধিপত্য উচ্ছেদের কাজও পাশাপাশি করতে হবে। যেসব দাতাসংস্থা বিভিন্ন দক্ষিণ এশিয় সম্প্রদায়দের সাথে কাজ করে, তাদের দক্ষিণ এশিয় এবং অন্যান্য কর্মীদের ঔপনিবেশিকতার সাথে সাথে ব্রাহ্মণ্যবাদ বিতাড়িত করার ব্যাপারেও সক্রিয় হতে হবে। আমাদের জোড় দিয়ে অর্থনৈতিক, লিঙ্গভিত্তিক, জাতিগত ও পরিবেশগত কাজে নিয়োজিত সকল সামাজিক ন্যায়বিচার কর্মী, সংস্থা, আন্দোলন, ইতিহাস ও প্রচলিত আখ্যানে জাত-বিরোধী বিশ্লেষণ প্রয়োগ করতে হবে। ব্রাহ্মণ্যবাদ নিপাত যাক, ঔপনিবেশিকতা সিদ্ধি পাক!   

প্রাচী পাটাঙ্কার ফাউন্ডেশন ফর এ জাস্ট সোসাইটির সাউথ এন্ড সাউথইস্ট এশিয়া প্রোগ্রাম অফিসার। একইসাথে তিনি বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত যা স্থানীয়কে আন্তর্জাতিকের সাথে, পুলিশী নৃশংসতা কে যুদ্ধের সাথে, অভিপ্রয়ানকে সামরিকীকরণের সাথে, জাতিকে জাতের সাথে, উইমেন অফ কালার নারীবাদকে বিশ্বব্যাপী জেন্ডার জাস্টিসের সাথে সংযুক্ত করে। 

আলাইয়ান্স দ্বারা এই রচনাটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১। 

অনুবাদঃ ফারাহ্‌ মেহ্‌রীন আহ্‌মেদ